সবচেয়ে বড় অভাগা হলেন কবি #কাজী #নজরুল #ইসলাম। তার চার বছরের শিশু বুলবুল যে রাতে মারা গিয়ে ছিল, সে রাতে তার পকেটে একটা কানাকড়িও ছিল না। অথচ #কাফন, #দাফন, গাড়িতে করে দেহ নেওয়া ও গোরস্থানে #জমি কেনার জন্য দরকার দেড়শো টাকা, সে সময়ের দেড়শো টাকা মানে অনেক টাকা। এত টাকা কোথায় পাবে। বিভিন্ন লাইব্রেরীতে লোক পাঠানো হল। না, টাকার তেমন ব্যবস্থা হয়নি। শুধুমাত্র ডি. এম #লাইব্রেরি দিয়েছিল পয়ত্রিশ টাকা। আরো অনেক টাকা বাকি। টাকা আবশ্যক।
ঘরে দেহ রেখে #কবি গেলেন এক প্রকাশকের কাছে। #প্রকাশক শর্ত দিল। এই মুহূর্তে কবিতা লিখে দিতে হবে। তারপর #টাকা।
কবি মনের নীরব কান্না,যতনা লিখে দিলেন কবিতায়
"ঘুমিয়ে গেছে শান্ত হয়ে
আমার গানের বুলবুলি
করুন চোখে বেয়ে আছে
সাঁঝের ঝরা ফুলগুলি।
নিচের হ্যাস ট্যাগ গুলো ব্যবহার করুন:
#Bangladesh #Bangla #Bengali #Dhaka #Bangladeshi #Kolkata
#বাংলাদেশ #বাংলা #বাঙালী #ঢাকা #বাংলাদেশী #কলকাতা
#প্রকাশক #দাফন #জমি #লাইব্রেরি #bangladesh #bangla #টাকা #bengali #dhaka #kolkata #বাংলাদেশ #কাজী #ইসলাম #কাফন #কবি #bangladeshi #নজরুল #বাংলা #বাঙালী #ঢাকা #বাংলাদেশী #কলকাতা
কোথায় হারিয়ে গেলো #ইলিয়াস #শাহী বংশ?
একটি রাজবংশ যা শত বছরের জন্য পরিবর্তন করে দিয়েছিলো ঘুণেধরা উপেক্ষিত বাংলার #ইতিহাস। একটি সাম্রাজ্য যা নির্মাণ করেছিলো বাঙালি হিসেবে আমাদের আত্মপরিচয়। যে #সাম্রাজ্য ছিলো বাঙালিদের ডমিনেটিং পাওয়ার, বিশ্বের সবচাইতে ধনী, সবচাইতে উর্বর ব-দ্বীপের সাম্রাজ্য„ যে সাম্রাজ্যের প্রথমদিকের স্বর্ণযুগে সুলতানের কেন্দ্রীয় আস্তাবলে ১ লক্ষ ঘোড়া থাকতো, যে সালতানাতের সুলতানের দরবারের বাহিরে ৫০০ সিস্তানী পালোয়ান #সৈন্য স্বর্ণের শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় সুলতানের শান-শৌকত প্রদর্শন করতো, যে সালতানাত একসময় ছিলো উপমহাদেশের একচ্ছত্র #পরাশক্তি, উপমহাদেশের সবচাইতে বড় দেশ। উসমানিয়, গজনভী, মুঘল, খাওয়ারিজম, মামলুক, মালি, কর্ডোবার ভিড়ে আমরা ভুলে গেছি আমাদের নিজেদের #সালতানাত কে ; যে সালতানাতের জন্যই আজ আমরা নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দিই, যে সালতানাতের জন্য বাংলা ভাষা রক্ষা পেয়েছিলো, বাঙালিরা দলে দলে #ইসলাম গ্রহণ করেছিলো।
এই বাংলায় একজন #সুলতান ছিলেন যিনি উপেক্ষিত বাংলাকে পরিণত করেছিলেন সার্বভৌম পরাশক্তিতে। তিনিই প্রথম সর্বপ্রকার জাতি-বৈষম্য ধ্বংস করে বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। শূদ্র-ব্রাহ্মণ-বৈশ্য-ক্ষত্রিয়-জাত মুসলিম-ধর্মান্তরিত #মুসলিম সকলে যার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো, তিনিই বাঙালি জাতির পিতা। বাংলা ও বাঙালি শব্দ দুটো তাঁরই দেয়া। পারসিক হয়েও বাংলা কে তিনি এতোটা ভালবাসতেন যে নিজেকে পরিচয় দিতেন "বাঙ্গালী" নামে। তাঁর মাধ্যমেই শুরু হয়েছিলো বাঙ্গালী নামক পরিচয়ের। সিজিস্তানের অধিবাসী হয়ে নিজেকে বলতেন "বাঙ্গালী"। বাংলা সালতানাতের রাজপরিবার ও। অভিজাতরা সকলেই নিজেদের কে পরিচয় দিতেন বাঙালি বলে। গৌড়ে তিনি নির্মাণ করেছিলেন বাংলাকোট দুর্গ, একটি নদীর নামই দিয়েছিলেন বাঙ্গালী।
তিনিই হলেন শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান সুলতান শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ্ গাজী (রহঃ)
ইলিয়াস শাহ সাধারণ কোনো শাসনকর্তা ছিলেন না। তিনি ছিলেন বৈপ্লবিক #রাষ্ট্রনায়ক । পাল সাম্রাজ্যের পতনের পর বাংলায় যে সেন আমলে শূদ্র-বৌদ্ধদের প্রতি বৈষম্য ও তুর্কি আমলে (১২০৪-১৩৩৮) আতরাফ মুসলমানদের প্রতি #বৈষম্য বিরাজমান ছিলো, তা উৎখাত করে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। #হিন্দু-মুসলিমের বৈষম্য দূরীভূত করেছিলেন ইলিয়াস শাহ। এমন ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে হিন্দু-মুসলমানকে চেনা যেতো শুধু কপালের তিলক দেখে। ইলিয়াস শাহর সিংহাসন আরোহণের পূর্বে অমুসলিম তো দূরের কথা নওমুসলিম দের পর্যন্ত সামরিক বাহিনীতে উচ্চপদে নেয়া হতো না, নেয়া হতো কেবল সামান্য পরিমাণে পদাতিক বাহিনীতে। তাদেরকে আতরাফ হিসেবে গণ্য করে নীচু দৃষ্টিতে দেখা হতো [ ইসলাম গ্রহণের পরেও!!] অনেকটা উমাইয়াদের অনারব মুসলিমদের থেকে জিজিয়া নেবার মত। এই বৈষম্য থেকে জাতিকে পরিত্রাণ দিয়েছিলেন সুলতান ইলিয়াস শাহ্। যেখানে ইংরেজ আমলে ব্রাহ্মণরা শূদ্রের ছায়া মাড়াতো না, সেইখানে মধ্যযুগে সুলতান ইলিয়াস শাহ শূদ্রকে প্রধান জেনারেল নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজবংশই বাংলাকে স্বাধীন করেছিলো। তিনি শাসক ছিলেন না, ছিলেন বিপ্লবী। মুসলমান হত্যার প্রতিবাদে নেপালে পশুপতিনাথের মূর্তি ত্রিখণ্ডিত করেছিলেন। ত্রিকলিঙ্গাধিপতির বিশাল বাহিনীর রক্তে চিল্কা হ্রদের পানি লাল করে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ১৩৩৮ থেকে শুরু করে ১৪১৮ এবং ১৪৩৬ থেকে আরম্ভ করে ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করে। ইলিয়াস শাহ্- কে #মানুষ এতোটাই ভালবাসতো যে গণেশের উত্থানের সময় মুসলমানেরা গণেশের আধিপত্য অস্বীকার করে দলে দলে জীবন বাজি রেখে শাহর-ই-নাও শহরে (বর্তমান বারোবাজার, ঝিনাইদহ) ইলিয়াস শাহী বংশের শেষ প্রদীপ #শাহজাদা নাসিরকে কেন্দ্র করে সমবেত হয়েছিলো। সারা বাংলায় গণেশের রাজত্ব চললেও মুসলমানেরা খুলনা বিভাগে টিকিয়ে রেখেছিলো ইলিয়াস শাহী #সালতানাত। ইলিয়াস শাহকে মানুষ এতোটাই ভালবাসতো যে„ আহমাদ শাহ নিহত হলে ইলিয়াস শাহের প্রপৌত্র শাহজাদা নাসির কে ৬০,০০০ মুসলিম সৈন্য মুহাম্মাদাবাদ (শাহর-ই-নাও) থেকে ফিরুজাবাদে নিয়ে এসে সিংহাসনে বসিয়েছিলো………
কোথায় গেলো সেই মহামতি মহাবীর ইলিয়াস শাহের বংশ? হোসেন শাহী বংশধররা বাংলাদেশে আছেন। হোসেন শাহী শাহজাদিদের বহু #বংশধর আছেন বাংলাদেশে, ভাটিরাজ ঈসা খাঁর বংশধর এবং সৈয়দ হযরত ইব্রাহিম দানিশমান্দের বংশধররা মাতৃকুলের দিক থেকে হোসেন শাহী বংশের সন্তান। এছাড়া মালদহ জেলায় হোসেন শাহী বংশধররা আছেন। কররানী বংশধররা সিলেটে আছেন। সিলেট জয়ী সৈয়দ নাসিরউদ্দিনের বংশও আছে। সৈয়দ #মুজতবা আলী তরফরাজ সৈয়দ নাসিরউদ্দিনেরই বংশধর। রাজা গণেশের বংশ পাকিস্তান আমল পর্যন্ত দিনাজপুরের #জমিদার ছিলো [সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মাদ শাহর প্রথম স্ত্রী নবকিশোরীর গর্ভজাত অনুপনারায়ণ রায়ের বংশধর] ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর জমিদারী #বিলুপ্তি ও দিনাজপুররাজের সব সম্পত্তি পাকিস্তান সরকার বাজেয়াপ্ত করলে মহারাজ গিরিজানাথ রায় কলকাতা চলে যান এবং সেখানেই মারা যান তিনি । গণেশের বংশধররা কলকাতাতেই আছেন। দিনাজপুর ইহতিমাম নবাবী আমলে অন্যতম বড় ইহতিমাম ছিলো, গণেশের বংশধরদের দ্বারা #শাসিত।
তাহলে কোথায় হারিয়ে গেলো বীর ইলিয়াসের বংশ?
১৪৮৭ সালে প্রাসাদ রক্ষীদের অধিনায়ক হাবশী খোজা শাহজাদা বারবাকের নেতৃত্বে হাবশীরা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সুলতান #জালালউদ্দিন ফতেহ শাহ্ কে হত্যা করে ক্ষমতার দখল নেয়। সুলতান শাহজাদা নাম নিয়ে সিংহাসনে বসে সেই খোজা। ফতেহ শাহ্ কে হত্যার পর তাঁর বিধবা সুলতানা ঘোষণা করলেন- সুলতানের হত্যাকারীকে যে হত্যা করতে পারবে, সিংহাসন তারই হবে। মালিক আন্দিল নামে এক প্রভুভক্ত হাবশী সেনাপতি #শাহজাদা বারবাক কে হত্যা করেন। ফতেহ শাহর একমাত্র পুত্রের বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। মালিক আন্দিল সুলতানাকে নাবালক শাহজাদার জন্য একজন অভিভাবক নির্ধারণের জন্য অনুরোধ করেন। সুলতানা চাইলেই পারতেন মালিক আন্দিল কে শাহজাদার অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করে শাহজাদাকে সিংহাসনে বসাতে, মালিক আন্দিলের সিংহাসনে বসার কোনো ইচ্ছা ছিলো না। তিনি সুলতানাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন শাহজাদার জন্য একজন অভিভাবক নির্ধারণ করতে।
কিন্তু সুলতানা তাঁর কথা রাখেন। মালিক আন্দিলকে সসম্মানে সিংহাসনে বসিয়ে ধনসম্পদ, সম্পত্তি, ক্ষমতা, ঐশ্বর্য, দাস-দাসী সর্বস্ব #ত্যাগ করে নিজের সন্তান কে সাথে নিয়ে চিরকালের জন্য প্রাসাদ ছেড়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। সেই যে সুলতানা সিংহাসনের দাবি ছেড়ে দিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেলেন, আর কখনো ফিরে আসেন নি, কখনো না!! ১৪৯০ সালের পর তাঁদের আর কোনো #সন্ধান কখনো পাওয়া যায়নি!
সুলতানা চাইলেই পারতেন জনগণ কে একত্রিত করে, সৈনিকদের #নেতৃত্ব দিয়ে শাহজাদাকে সিংহাসনে বসাতে! ইলিয়াস শাহী বংশধরের প্রতি সেই আবেগ, সেই #প্রেম বাংলার জনগণের তখনো ছিলো! কারণ- এবাংলাকে তো গড়েছিলেন ইলিয়াস শাহই। এ বাংলার #আকাশ-বাতাসে মিশে একাকার হয়ে রয়েছেন যিনি, তিনিই তো ইলিয়াস! প্রজাবাৎসল্লে প্রজাদের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। 'ইলিয়াস শাহ' এবং 'বাংলা' শব্দ দুটি হয়ে উঠেছিলো সমার্থক। সাম্য ও ইনসাফ এনেছিলেন সুলতান…
কিন্তু সুলতানা করলেন না। স্বামীর হত্যাকারীকে শাস্তি দিয়ে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মালিক আন্দীলকে ক্ষমতায় বসিয়ে চলে গেলেন আড়ালে, চিরতরে…
আহা! ইলিয়াস শাহী বংশের #রাজবধু বলে কথা!! ক্ষমতা, সম্পদ, ঐশ্বর্য সব বিলীন করে দিয়ে একমাত্র সন্তানকে আঁকড়ে ধরে নিতান্তই সাধারণ বাঙালী গৃহবধুর মতো প্রাসাদ ছেড়ে বাংলার মেঠোপথ দিয়ে চলে গেলেন সুলতানা। এরপর আর কখনো আসেন নি। কত বসন্ত গেলো, কত যুগ হলো পার……মহামতি ইলিয়াসের বংশধররা আর জনসম্মুখে আসেন নি, এমনকি সিংহাসনের দাবি নিয়েও কেউ কখনো সামনে আসেন নি। রয়ে গেলেন কিংবদন্তীতে, মানুষের মুখে মুখে- এই বাংলায় ১ জন ইলিয়াস এসেছিলেন...!!
এভাবে বাংলা থেকে আড়ালে হারিয়ে যান ইলিয়াস শাহী বংশধররা....!! এরপর আর কখনো তাঁরা আসেন নি সামনে, কক্ষনো না!
নিচের হ্যাস ট্যাগ গুলো ব্যবহার করুন:
#Bangladesh #Bangla #Bengali #Dhaka #Bangladeshi #Kolkata
#বাংলাদেশ #বাংলা #বাঙালী #ঢাকা #বাংলাদেশী #কলকাতা
#ইলিয়াস #পরাশক্তি #মুসলিম #রাষ্ট্রনায়ক #বৈষম্য #হিন্দু #মানুষ #শাহজাদা #মুজতবা #জমিদার #বিলুপ্তি #রাজবধু #bangladesh #dhaka #bangladeshi #kolkata #ঢাকা #বাংলাদেশী #কলকাতা #সাম্রাজ্য #সৈন্য #শাহী #ইতিহাস #সালতানাত #ইসলাম #সুলতান #বংশধর #শাসিত #জালালউদ্দিন #ত্যাগ #সন্ধান #নেতৃত্ব #bangla #bengali #প্রেম #আকাশ #বাংলাদেশ #বাংলা #বাঙালী
নবাব মুর্শিদকুলি খান
#মুর্শিদকুলি খান ১৬৬০ সালে হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার নাম ছিল সূর্য নারায়ণ মিশ্র। মুর্শিদকুলি খানকে #মুঘল দরবারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হাজী শফি ইস্পাহানি ক্রীতদাস হিসেবে ক্রয় করেন। সেখানে মুর্শিদকুলি খান #ইসলাম #ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নাম রাখেন মির্জা হাদি। হাজী শফির কাছে তিনি শিক্ষিত হন। পরে তিনি বিদর্ভ প্রদেশ (বর্তমানে ভারতের মহারাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল) এর দেওয়ান হাজী আব্দুল্লাহ কুরাইশির অধীনে চাকরি নেন। এই সময় মুর্শিদকুলি খান #রাজস্ব আদায়ের
বিশেষ দক্ষতার কারণে, আওরঙ্গজেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
১৭০০ সালে #আওরঙ্গজেব মুর্শিদকুলি খানের নাম মীরজা হাদি থেকে পরিবর্তন করে কার্তালাব খান রাখেন এবং বাংলার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। সে সময় বাংলার সুবেদার ছিলেন প্রথম বাহাদুর শাহের পুত্র আজিম-উস-শান। আজিম উস শান মুর্শিদকুলি খানের নিয়োগের সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি বাংলার রাজস্ব দিল্লির ক্ষমতা দখলের জন্য ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুর্শিদ কুলি খান তৎকালীন #জাহাঙ্গীরনগর, বর্তমান ঢাকায় আসেন এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সহ মূঘল কর্মচারীদের নিজের পক্ষে নিয়ে আসেন যা আজিমুশশানকে ক্ষুব্ধ করে।
আজিমুশশান মুর্শিদকুলি খানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মুর্শিদকুলি খান হত্যার পরিকল্পনা জেনেও না জানার ভান করেন। আজিমুশশান কর্মকর্তাদের বিদ্রোহের মাধ্যমে মুর্শিদকুলি খানকে হত্যার চেষ্টা করেন যা ব্যর্থ হয়। মুর্শিদকুলি খান এই হত্যার ব্যাপারে আরঙ্গজেবের নিকট চিঠি লিখেন। আরঙ্গজেব রাগান্বিত হয়ে, আজিমুশশানের নিকট চিঠি লিখে এবং বলেন মুর্শিদ কুলি খানের ক্ষতি হলে এর প্রতিশোধ নিবেন এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এতে আজিমুশশান ভীত হয়ে পড়েন এবং মুর্শিদকুলি খানকে বন্ধু হবার প্রস্তাব দেন।
তারপরেও মুর্শিদকুলি খান ঢাকায় নিজেকে অনিরাপদ বোধ করেন এবং বাংলার সুবা অফিস টি ঢাকা থেকে মকসুদাবাদ যা বর্তমান মুর্শিদাবাদের স্থানান্তর করেন, আজিমুশশানের অনুমতি ছাড়াই। ঐতিহাসিকদের মধ্যে মুর্শিদকুলি খান এ কাজ সহজে করতে পেরেছিলেন কারণ আওরঙ্গজেবের সমর্থন ছিল। ১৭০২ সালে মুর্শিদকুলি খান বিজাপুরে যান, আরঙ্গজেবের সাথে দেখা করতে এবং বাংলার রাজস্ব প্রদান করেন। এতে আওরঙ্গজেব খুশি হয়ে তাকে #মুর্শিদকুলি উপাধি দেন এবং #মকসুদাবাদের নাম পরিবর্তন করে মুর্শিদাবাদ রাখার অনুমতি দেন।
তার এক বছর পরে ১৭০৩ সালে আরঙ্গজেব আজিমুশশানকে বিহারে স্থানান্তরিত করেন এবং ফররুকশিয়ারকে বাংলার সুবাদার করেন। #ফররুকশিয়ার নাম মাত্র বাংলার সুবেদার ছিলেন। এ সময় বাংলার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে ওঠেন মুর্শিদকুল খান। ১৭০৪ সালে মুর্শিদকুলি খান প্রথম মুদ্রা জারি করেন।
১৭০৭ সালে আরঙ্গজেবের মৃত্যু হলে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। #দিল্লি দখল করেন তার পুত্র আজম শাহ কিন্তু আজম শাহ আরঙ্গজেবের অন্য পুত্র মোয়াজ্জেমের (প্রথম বাহাদুর শাহ) নিকট পরাজিত হলে #মুঘল সম্রাট হন প্রথম বাহাদুর শাহ।
আজিমুশশান প্রতিশোধ নিতে তার পিতা প্রথম বাহাদুর শাহ কে প্রভাবিত করেন এবং মুর্শিদকুলি খান কে 1708 সালে বাংলা থেকে সরিয়ে দাক্ষিণাত্যের দেওয়ানী দেন।
কিন্তু ১৭১০ সালে আজিমুশশান দিল্লির অভিজাতিদের সমর্থনের উদ্দেশ্যে মুর্শিদকুলি খান কে পুনরায় বাংলার দেওয়ানি করে ফিরিয়ে আনেন। যদিও তাতে তার কোন লাভ ঘটে না। কারণ ১৭১২ সালে তার পিতা প্রথম বাহাদুর শাহ মৃত্যুবরণ করলে মোঘল সম্রাট হন জাহান্দার শাহ। জাহান্দার শাহ অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় ছিলেন। ১৭১৩ সালে জাহান্দার শাহের মৃত্যু হলে দিল্লির ক্ষমতায় আসেন বাংলার সুবেদার ফররুকশিয়ার। ১৭১৬ সালে ফররুকশিয়ার মুর্শিদকুলি খানকে জাফর খান উপাধি দেন এবং বাংলার সুবেদার নিযুক্ত করেন। এই সময় সম্রাট ফররুকশিয়ার নামমাত্র মুঘল সম্রাট থাকেন, প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় দরবারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে মূলত সৈয়দ ভাইদের হাতে। এ সময় মুঘল সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রকৃত মুঘল সম্রাট না থাকায় 1717 সালে মুর্শিদকুলি খান নিজেকে বাংলার নবাব হিসেবে ঘোষণা দেন এবং বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করেন। তখনই মুর্শিদকুলি খান হয়ে ওঠেন বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। বাংলা বিহার, উড়িষ্যার একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে শাসন করতে থাকেন। তিনি ১৭১৭ থেকে ১৭২৭ সাল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন নবাব ছিলেন।
অবকাঠাম:
মুর্শিদকুলি খান দুঘরিয়া অঞ্চলে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন, একটি দেওয়ান খানা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য সরাইখানা ও মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৭২০ সালে তিনি টাকশাল নির্মাণ করেন। ১৭২৪ সালে তিনি কাটরা মসজিদ তৈরি করেন যেখানে তার মৃত্যুর পরে তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে সিঁড়ির নিচে সমাহিত করা হয়।
নিচের হ্যাস ট্যাগ গুলো ব্যবহার করুন:
#Bangladesh #Bangla #Bengali #Dhaka #Bangladeshi #BD
#বাংলাদেশ #বাংলা #বাঙালী #ঢাকা #বাংলাদেশী
#মুর্শিদকুলি #আওরঙ্গজেব #জাহাঙ্গীরনগর #ফররুকশিয়ার #bangladesh #মুঘল #ইসলাম #ধর্ম #রাজস্ব #মকসুদাবাদের #দিল্লি #bangla #bengali #dhaka #bangladeshi #bd #বাংলাদেশ #বাংলা #বাঙালী #ঢাকা #বাংলাদেশী